‘কতকাল ধরে’ সৃজনশীলে সহায়ক জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর:

১। আনিসুজ্জামান কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

২। আনিসুজ্জামন কোথায় জন্মগ্রহণ করে?

উত্তর: আনিসুজ্জামান কলকতায় জন্মগ্রহণ করেন।

৩।‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থের প্রধান সম্পাদক কে?

উত্তর: ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থের প্রধান সম্পাদক আনিসুজ্জামন।

৪। সাধারণ লোকেরা কিসের পাত্রে রান্না করত?

উত্তর: সাধারণ লোকেরা কিসের পাত্রে রান্না করত?

উত্তর: সাধারণ লোকেরা মাটির পাত্রে রান্না করত।

৫।মেয়েরা সোনার তারঙ্গ ব্যবহার করত কোথায়?

উত্তর: মেয়েরা সোনার তারঙ্গ ব্যবহার করত কানে।

৬। কারা সাঁতার দিতে ও বাগান করতে ভালোবাসত?

উত্তর: মেয়েরা সাঁতার দিতে ও বাগান করতে ভালোবাসত।

৭।হাতির দাঁতের পালকি কারা ব্যবহার করতেন?

উত্তর: প্রাচীনকালের বাজারা হাতির দাঁতের পালকি ব্যবহার করতেন।

৮।‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে কজন প্রাচীন সংস্কৃত কবির বর্ণনা দেওয়া আছে?

উত্তর: ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে দুইজন প্রাচীন সংস্কৃত কবি বর্ণনা দেওয়া আছে।

৯।প্রাচীনকালে মেয়েরা কিসে চড়ত?

উত্তর: প্রাচীনকালে মেয়েরা ডুলিতে চড়ত।

১০।আলো-আঁধারারের খেলায় কী ঢাকা পড়েছে?

উত্তর: আনিসুজ্জামানের ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে আলো-আঁধারের খেলার অনেক পুরনো কথা ঢাকা পড়েছে।

১১।কত বছর আগে এদেশে রাজারা এলেন?

উত্তর: তেই-চব্বিশ-শ বছর আগে এদেশে রাজারা এলেন।

১২।হাজার বছর আগে পুরুষেরা ধুতির সাতে আর কী পরত?

উত্তর: হাজার বছর আগে পুরুষেরা ধুতির সাথে চাদর পরত।

১৩।হাজার বছর আগে জুতো ব্যবহার কতর কারা?

উত্তর: হাজার বছর আগে শুধু যোদ্ধা বা পাহারাদাররা জুতো ব্যবহার করত।

১৪।হাজার বছর আগে মখমলের কাপড় পরত কারা?

উত্তর: হাজার বছর আগে মখমলের কপড় পরত শুধু সচ্ছল পরিবারের মেয়েরা।

১৫।প্রাচীনকালে বড়লোকের মেয়েরা কিসের অলংকার ব্যবহার করত?

উত্তর: প্রাচীনকালে বড়লোকের মেয়েরা সোনার অলংকার ব্যবহার করত।

১৬। সাধারণ পরিবারের মেয়েরা হাতে কী পরত?

উত্তর: সাধারণ পরিবারের মেয়েরা হাতে শাঁখা পরত।

১৭।প্রাচীনকালে প্রিয় ফল কী ছিল?

উত্তর: আম-কাঁঠাল, তাল-নারিকেল ছিল প্রাচীনকালে প্রিয় ফল।

১৮।সেকালে পুরুষদের অত্যন্ত প্রিয় কেলা কি ছিল?

উত্তর: কুন্তি ছিল সেকালে পুরুষদের অত্যন্ত প্রিয় খেলা।

১৯।ঘোড়া ও হাতির খেলা দেখত কারা?

উত্তর: বড়লোকেরা ঘোড়া ও হাতির খেলা দেখত।

২০।কারা ভেড়ার লড়াই, মোরগ-মুরগির লড়াই দেখে মজা পেত?

উত্তর: গরিবেরা ভেড়ার লড়াই, মোরগ-মুরগির লড়াই দেখে মজা পেত।

২১।হাতির পিঠে ও ঘোড়ার গাড়িতে চড়ত কারা?

উত্তর: শুধু অবস্থাপন্ন লোকেরাই হাতির পিঠে ও ঘোড়ার পিঠে চড়ত।

অনুধাবনমুলক প্রশ্ন ও উত্তর:

১। সাধারণ লোকজন নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত কেন?

উত্তর: আগের দিনে রাজ-রাজড়াদের অবস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় সাধারণ লোকজন কোনো সমস্যায় পড়লে নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত।

‘কতকাল ধরে’ রচনা থেকে জানা যায়, বাঙালি জাতির ইতিহাস বড়ই সম্মানের। আগের দিনে রাজা ও প্রজার পরিচয়ের দাম্ভিকতা ছিল না। সাধারণ মানুষ কোট-কাচারিতে তেমন একটা যেতে চাইত না। নিজেদের মাঝে সামান্য সমস্যা সৃষ্টি হলে নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে উক্ত বিষয়ের সমাধান দিত।

২।‘সাজসজ্জার দিকে বেশ ঝোঁক ছিল বাঙালির’-কেন?

উত্তর: বাঙালি সৌখিন জাতি হওয়ায় তাদের সজসজ্জার দিকে বেশ ঝোঁক ছিল।

বাঙালির অতীত ইতিহাস বড়ই গৌরবের। তারা সৌখিন ও আরামপ্রিয়। বাঙালি ছেলেমেয়েরা সাজের বিষয়ে ছিল খুবই যত্নবান। ছেলেরা সু্ন্দর বাবরি চুল রাখত। এই চুল মাথার উপর চুড়ো করে বেঁধে রাখত। আগের দিনে ছেলেরা যেভাবে চুল বাঁধত এখন মেয়েরা সেভাবে বাঁধে। মেয়েরা ফিতা দিয়ে চুল বাঁধতো। কপালে টিপ, পায়ে আলতা, চোখে কাজল, গোঁপায় ফুল দিয়ে মেয়েরা সাজতো।

৩।যাতায়াত ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে ধনী-গরিব পরিলক্ষিত হয়?

উত্তর: প্রাচীন আমলে ধনী-দরিদ্রের যে বৈষম্য তা সেই সময়ের যাতায়াত ব্যবস্থার মধ্যেও ফুটে ওঠে।

প্রাচীনকালে যাতায়াতের প্রধান উপায় ছিল নৌকা। হাতির পিঠে ও ঘোড়া গাড়িতে চড়ত শুধু অবস্থাপন্ন লোকেরা। গরুর গাড়ি ব্যবহার করত সাধারণ লোকে বিশেষ কোনো উপলক্ষে। মেয়েরা ডুলিতে চড়ত, পালকিরও ব্যবহার ছিল। ড়েলোকদের পালকি হতো খুব সাজানো-গোছানো, রাজবাড়িতে হাতির দোঁতের পালকিও থাকত। এভাবেই প্রাচীনকালের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উপকরণের মধ্যেও শ্রেণিবৈষম্য ফুটে ওঠে।

৪।শ্রেণবৈষম্য কেন সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর: রাজা-বাদশাহদের আগমনে প্রাচীনকাল থেকেই শ্রেণিবৈষম্য শুরু হয়।

রাজারা আসার সময় নিয়ে এলন মন্ত্রী, মহাসামন্তের দল। রাজ্যে হাজার হাজার লোক-লস্কর বহাল করা হলো। রাজারা নিজেদের স্বার্থে সৃষ্টি করলেন নানা নিয়মকানন। শুরু হয় প্রজা নিপীড়ন। সাম্য সমাজব্যবস্থায় দেখা যয় শ্রেণিবৈষম্য। রাজার তোষামুদেদের কেউ কেউ ধনী হয়ে যেত, আবার রাজার অধীনন্ত কর্মচারদের জুলুমে অনেক প্রজািই নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয় প্রকট আকারে।

৫।দুজন প্রাচীন সংস্কৃত কবির রচনার উদারহণ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: লেখক প্রাচীন আমলের শ্রেণিবৈষম্য ও মানুষের সত্যিকারের অবস্থা তুরে ধরার জন্যই দুজন সংস্কৃত কবির রচনার উদাহরণ দেন।

আনিসুজ্জামান ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে দুজন কবির বর্ণনা দেন। একজন কবি মেয়েদের সৌন্দর্যের বর্ণনা দেন যা আসলে বিলাসী জীবনযাপনেরই পরিচয় বহন কর্ েআরেকজন আঁকেন নিরানন্দ জীর্ণ সংসারের ছবি যেখানে ফুটে ওঠে নিদারুণ অভাব, জ্বালাময় দারিদ্র্য ও অপরিসীম বেদনা। এই দুজন সংস্কৃত কবির রচনায় প্রমাণ করে প্রাচীন আমলের শ্রেণিবৈষম্যের নির্মমতা।

৬।প্রাচীনকারে মানুষের দাম বেশি ছিল কেন?

উত্তর: প্রাচীনকারে মানুষের দাম বেশি থাকার কারণ হলো তখন দেশে রাজা ছিল না। নিজেরা সবাই ইচ্ছার প্রকাশ ঘটাতে পারত।

আনিসুজ্জামান-এর ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধ হতে জানা যায়, প্রাচীনকালে বাংলায় কোনো রাজা ছিল না, ব্যক্তিমাত্রই স্বাধীন ছিল। তারা যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত, চাষ করত, ঘর বাঁধত। এভাবেই তাদের দিন চলত, দেশ চলত। কিন্তু দেশে যখন রাজা এলেন, নিয়মকানুন হলো, তখন মানুষের দাম কমে গেল।