কুলিমজুর কবিতার প্রশ্নাবলী | সপ্তম শ্রেণি বাংলা

জ্ঞান মূলক প্রশ্ন ও উত্তর:

1) কাজী নজরুল ইসলাম কবে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম 1899 সালে জন্মগ্রহণ করেন।

2) কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

3) বাবু সাহেব কাকে ঠেলে নিচে ফেলল?
উত্তর বাবুসাব কুলিকে ঠেলে নিচে ফেলল।

4) বাষ্প-শকট চলে কাদের হাড় দিয়ে?
উত্তর: বাষ্প-শকট চলে দধীচিদের হাড় দিয়ে।

5) বাষ্প শকটে কারা চড়ে?
উত্তর: বাষ্প-শকট এ বাবু সাহেবেরা চড়ে।

6) মোটর কোথায় চলে?
উত্তর: মোটর রাজ পথে চলে

7) অট্টালিকা শব্দটির অর্থ কি?
উত্তরঃ অট্টালিকা শব্দের অর্থ প্রাসাদ।

8) বাংলাদেশের জাতীয় কবি কে?
উত্তরঃ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

9) ছেলেবেলায় কাজী নজরুল ইসলাম কিসের দলের গান করেছেন?
উত্তরঃ ছোট বেলায় কাজী নজরুল ইসলাম লেটোর দলে গান করেছে।

10) কাজী নজরুল ইসলাম কবে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম কোন 1976 সালের 29 এ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন

11) গাঁইতি কি?
উত্তরঃ গাঁইতি হল পাথর ইট প্রভৃতি দ্বারা নির্মিত কঠিন স্থান করার জন্য লাঙ্গলের আকারে দুমুখো কুড়াল।

12) জগৎ জুড়ে কারা মার খাচ্ছে?
উত্তরঃ জগৎ জুড়িয়া দুর্বলরা মার খাচ্ছে।

13) কুলি মজুর কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তরঃ কুলি মজুর কবিতাটি সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

14) কুলি-মজুর কবিতায় কোন মুনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তরঃ কুলি মজুর কবিতায় দধীচি মুনির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

15) কুলি মজুর কবিতায় রেলপথে কোনটি চলে?
উত্তরঃ কুলি-মজুর কবিতায় রেলপথে বাষ্প-শকট চলে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

v শুধিতে হইবে ঋণ কথাটি দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ শুধিতে হইবে ঋণ কথাটি দ্বারা শ্রমজীবীদের শুভ দিন আগমনের বিষয়ে বোঝানো হয়েছে।

আমাদের এই বর্তমান সভ্যতা শ্রমজীবী মানুষের ঘামে ও শ্রমে তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাদের এই শ্রম ও ত্যাগের কথা সর্বদাই উপেক্ষিত। কবি কাজী নজরুল ইসলাম আলোচ্য কবিতায় বলেছেন যে তাদের জন্য শুভ দিন আসছে। তাদের প্রতি ধনিক শ্রেণীর জমে থাকা সকল ঋণ পরিশোধ করতে হবে অর্থাৎ তাদেরকে তাদের পাওনা মর্যাদা প্রদান করতে হবে।

v আসিতেছে শুভ দিন এখানে কবি কোন শুভ দিনের কথা বলেছেন বুঝিয়ে লেখ?
উত্তর আলোচ্য চরণটিতে কাজী নজরুল ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের যোগ্য মর্যাদা স্বীকার করে নেওয়ার কথা প্রকাশ করেছেন।

কুলি মজুর কবিতায় মানবতাবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছেন। আমাদের এই বর্তমান সভ্যতা শ্রমজীবী মানুষের ঘামে ও শ্রমে তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাদের এই শ্রম ও ত্যাগের কথা সর্বদাই উপেক্ষিত। কবি কাজী নজরুল ইসলাম আলোচ্য কবিতায় বলেছেন যে তাদের জন্য শুভ দিন আসছে। তাদের প্রতি ধনিক শ্রেণীর জমে থাকা সকল ঋণ পরিশোধ করতে হবে অর্থাৎ তাদেরকে তাদের পাওনা মর্যাদা প্রদান করতে হবে।

v ‘এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?’ চরণটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তরঃ আলোচ্য চরণটি দ্বারা কবি দুর্বলের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

পৃথিবীর সব জায়গায় দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চলছে। যুগ যুগ ধরে সমাজে কুলি মজুর ও শ্রমজীবীরা সবচেয়ে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত। সেইসব বঞ্চিত মানুষের কথা মনে করেই কবি চরণটির মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন।

v কুলি মজুর কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম কাদের পক্ষে কলম ধরেছেন এবং কেন?
উত্তরঃ কুলি মজুর কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে কলম ধরেছেন।

যুগ যুগ ধরে কুলি মজুর ও শ্রমজীবী মানুষেরা আমাদের এই সভ্যতা গড়ে তুলেছে। বর্তমান সভ্যতা নির্মাণে কুলি মজুরদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কুলি মজুরদের শ্রমকে কাজে লাগিয়ে বাবু সাহেবেরা কোটি টাকা উপার্জন করে নিয়েছে। বিনিময়ে কুলি-মজুররা পেয়েছে শুধু বঞ্চনা। তাই কুলি মজুরদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজী নজরুল ইসলাম তাদের পক্ষে কলম ধরেছেন।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ

বর্তমানে কর্মজীবী মানুষেরা চাকরির ক্ষেত্রে যে সুবিধা পারিশ্রমিক ও আধঘন্টা কর্মঘন্টার সুযোগ পায় তা একসময় ছিল না।পূর্বে প্রতিষ্ঠান মালিকেরা তাদের কর্মচারীদের দিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করা তবুও না ন্যায্য পারিশ্রমিক বা চাকরি থাকার নিরাপত্তা। ১৮৮৬ সালে ম্যককমিক হারভেস্ট কোম্পানির শ্রমিকেরা এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। শোষন কারী মালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে পালন করা তাদের ধর্মঘটে পুলিশ গুলি ছোড়ে। একজন শ্রমিক নিহত হয়, আহত হয় অনেকেই। এ আন্দোলনের পথ ধরেই শ্রমিকরা পরবর্তীতে আরো সঙ্ঘবদ্ধ হয় এবং উক্ত অধিকারগুলো আদায়ে সক্ষম হয়।

ক। গাইতি কি?
খ। কুলি-মজুর কবিতায় কবি কেমন মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে?
গ। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান মালিকেরা কুলি-মজুর কবিতায় উল্লিখিত কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ। “কবি কুলি-মজুর কবিতায় যে শুভ দিন আসার কথা বলেছেন উদ্দীপকের যেন তারই রূপায়ণ ঘটেছে” মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।