কোষ কাকে বলে? জীব কোষের গঠন

কোষ জীবের গঠন একক। জীবদেহের গঠন ও কাজের একক কে কি বলে। কোটি কোটি কোষ দ্বারা আমাদের শরীর গঠিত। ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের ছিপি পরীক্ষা করে মৌচাকে নেয় কতগুলো বক্স পরপর সাজানো দেখতে পান। এগুলোকে তিনি কোষ নাম দেন। কোষ প্রধানত দুই প্রকার: আদি কোষ ও প্রকৃত কোষ। আদি কোষের নিউক্লিয়াস কোন আবরণী দ্বারা আবদ্ধ থাকে না। অন্য ক্ষেত্রে প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসে আবরণ থাকে।

একটি জীব কোষের গঠন:

একটি জীব কোষ ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ এর সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এতে কতগুলো উপাদান বিদ্যমান থাকে। নিচে একটি জীব কোষের গঠন তুলে ধরা হলো।

  1. কোষ প্রাচীর: জীব কোষের কোন কোষ প্রাচীর নেই। তবে উদ্ভিদ কোষের কোষ প্রাচীর দেখা যায়। কোষপ্রাচীর জরও পদার্থের তৈরি। কোন কোন কোষের প্রাচীর ছিদ্র থাকে। এদের কূপ বলে। কোষপ্রাচীর কোষের আকার প্রদান করে এবং ভেতর ও বাইরের মধ্যে তরল পদার্থ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এরা কোষের ভিতরের অংশ কে রক্ষা করে।
  2. প্রোটোপ্লাজম: কোষ প্রাচীর এর অভ্যন্তরে পাতলা পর্দা বেষ্টিত জেলির ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রোটোপ্লাজম বলে। একে জীবনের ভিত্তি বলা হয়। এর তিনটি অংশ। যথা কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।
    • কোষঝিল্লি: সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাজম কে ঘিরে যে নরম পর তা দেখা যায় তাকে কোষঝিল্লি বা সেল মেমব্রেন বলে। পেটিকোটের ভেতর ও বাইরের মধ্যে পানি, খনিজ পদার্থ ও গ্যাস এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
    • সাইটোপ্লাজম: প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসকে বাদ দিলে যে অর্ধতরল অংশটি থাকে তাকে সাইটোপ্লাজম বলে। এর প্রধান কাজ কোষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গগুলোকে ধারণ করা। কিছু শরীর বৃত্তীয় কাজ এখানে সম্পূর্ণ হয়।