গরবিনী মা জননী

প্রশ্ন \ ১ \ কবি কাকে পুণ্যবতী ও ভাগ্যবতী বলেছেন?
উত্তর : কবি জননী বাংলা মাকে পুণ্যবতী ও ভাগ্যবতী বলেছেন।

প্রশ্ন \ ২ \ বাংলা মায়ের বুকের আঁচল কী রঙের?
উত্তর : বাংলা মায়ের বুকের আঁচল সবুজ রঙের।

প্রশ্ন \ ৩ \ কার চোখের জল নদীর কাজল?
উত্তর : মায়ের চোখের জল নদীর কাজল।

প্রশ্ন \ ৪ \ বাংলা মা রোজ ভোরে তার খোঁপায় কী গোঁজে?
উত্তর : বাংলা মা রোজ ভোরে তার খোঁপায় ভোরের শিশির গোঁজে।

প্রশ্ন \ ৫ \ বাংলা মায়ের পায়ের নূপুরে কী মাখা?
উত্তর : বাংলা মায়ের পায়ের নূপুরে ধুলা মাখা।

প্রশ্ন \ ৬ \ বাংলা মা কী ফুলের গন্ধ মাখে?
উত্তর : বাংলা মা বকুল এবং যুঁথী ফুলের গন্ধ মাখে।

প্রশ্ন \ ৭ \ মরণ মারের দণ্ড গোণে কারা?
উত্তর : বাংলা মায়ের সাহসী ছেলেরা মরণ মারের দণ্ড গোনে।

প্রশ্ন \ ৮ \ কান্না ফুলের নকশা বোনে কারা?
উত্তর : বাংলা মায়ের দুর্ভাগিনী মেয়েরা কান্না ফুলের নকশা বোনে।

প্রশ্ন \ ৯ \ কারা ভয়ঙ্করের দুর্বিপাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে?
উত্তর : মা নাম ডাকা পাগল ছেলেরা ভয়ঙ্করের দুর্বিপাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রশ্ন \ ১০ \ বাংলা মায়ের ছেলেরা কী উপড়ে ফেলে?
উত্তর : বাংলা মায়ের ছেলেরা বুলেট ফাঁসির শাসন কারা উপড়ে ফেলে।

প্রশ্ন \ ১১ \ দুখের ধূপে সুখ পোড়ায় কারা?
উত্তর : দুখের ধূপে সুখ পোড়ায় বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা।

প্রশ্ন \ ১২ \ কবি কাকে রক্তে ধোওয়া সরোজিনী বলে অভিহিত করেছেন?
উত্তর : কবি বাংলা মাকে রক্তে ধোওয়া সরোজিনী বলে অভিহিত করেছেন।

প্রশ্ন \ ১৩ \ বাংলাদেশ কাদের জন্য গর্বিত?
উত্তর : যে সন্তানরা সাহসের সাথে সংগ্রামের পথ বেছে নেয় বাংলাদেশ তাদের জন্য গর্বিত।

প্রশ্ন \ ১৪ \ ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর : ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতাটি ‘বাঙলা ছাড়ো’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন \ ১ \ ‘চোখে মা নদীর কাজল’ বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
উত্তর : বাংলা মায়ের চোখের জলের গভীরতাকে আলোচ্য পঙ্ক্তিতে রূপকের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। জালের মতো ছড়িয়ে আছে শত শত গভীর-অগভীর নদী। এ সকল কাজল কালো নদী বাংলাকে করেছে শস্য-শ্যামলা। তাই কবি বাংলা মায়ের চোখকে সোন্দর্যের প্রতীকের অন্তরালে কল্পনা করেছেন।

প্রশ্ন \ ২ \ ‘কামার কুমোর জেলে চাষী-বাউল মাঝি ঘর-উদাসী’ – অর্থ কী?
উত্তর : আলোচ্য পঙ্ক্তি দ্বারা চিরায়ত বাংলার অসা¤প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটেছে।
সকল পেশা ও বর্ণের মানুষের সম্মিলনই হচ্ছে আমাদের এ উদাসী বাংলা। ভালোবাসার সুরে গান গাওয়া এ বাংলা কখনো কোনো উচ-নীচ জীবিকার মানুষকে আলাদা চোখে দেখেনি। তাই সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে কবি এক ঘরে ঢুকিয়ে অসা¤প্রদায়িক বাংলার পরিচয় তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন \ ৩ \ ‘ছেলের বুকের খুন ছোপানো কোন জননীর আঁচল কোণে- অর্থ কী?
উত্তর : ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্ত বাংলা মায়ের শাড়ির আঁচলে লেগে আছে -এ বিষয়টিই কবি আলোচ্য চরণে তুলে ধরেছেন।
বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা ধারাবাহিকভাবে রক্তের হোলি খেলেই ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে। নানা রক্ত সংগ্রামের পিচ্ছিল দিয়ে বাংলা মা তার প্রিয় বুকের ধনকে অনেকবার হারিয়েছে। তাই কবির সহজ সরল স্বীকারোক্তি রক্তঝড়া বহু সংগ্রামের স্মৃতিতে ভাস্বর বাংলা মায়ের শাড়ির আঁচল কোণে রক্তের দাগ লেগে আছে।

প্রশ্ন \ ৪ \ ভয়ঙ্করের দুর্বিপাক বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
উত্তর : বাংলার দামাল ছেলেরা কোনো প্রকার পিছটান না রেখেই ভয়ঙ্করের দুর্বিপাকে নির্দ্বিধার ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
এ শ্যামল বাংলায় বার বার আঘাত হেনেছে আধিপত্যবাদী নানা পরাশক্তি। বাংলার বীর সন্তানেরা তখন ঘরের কোণে চুপটি করে বসে থাকতে পারেনি। কঠিন সময়ে তারা অসীম সাহসে সকল ভয়ঙ্করের বিরুদ্ধে বুক টান করে দাঁড়িয়েছে। তাই কবি আলোচ্য পঙ্ক্তি দ্বারা বাংলা মায়ের দামাল সন্তানদের যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের সাহসী মোকাবিলাকে তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন \ ৫ \ ‘বুলেট ফাঁসির শাসন কারা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা বীরেরা কোনো স্বৈরাচারী অপশক্তির রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেনি। এ বিষয়টি আলোচ্য পঙ্ক্তিতে উঠে এসেছে।
এ বাংলায় বার বার আঘাত হেনেছে বিদেশি বর্গিরা। মুক্তিকামী দামাল সন্তানদের তারা বেয়নেটের মুখে দাঁড় করিয়ে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রকে ভুলতে বলেছে, পায়ে পরাতে চেয়েছে পরাধীনতায় পাষাণ শৃঙ্খল। বাংলার সূর্য সন্তানরা মৃত্যু, কারাভোগ, শোষণের নামে শাসন কোনো কিছুকেই পরোয়া করেনি। বুক বাড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে তারা।

প্রশ্ন \ ৬ \ বাংলা মাকে গরবিনী বলা হয়েছে কেন?
উত্তর : সুজল-সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলা যুগে যুগে প্রসব করেছে অনেক বীর সন্তান; তাই বাংলা মাকে কবি গরবিনী বলে অভিহিত করেছেন।
সময়ের প্রয়োজনে এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে শ্যামল ধরিত্রীর বুক থেকে অনেক বীর সন্তানের উদ্ভব হয়েছে। যারা দেশমাতৃকা স্বাধীন করার পাশাপাশি ইতিহাসের সোনালি পাতায় কালো অক্ষরে অমরত্ব লাভ করেন। তাই বীর সন্তানপ্রসূ বাংলা মা তো গরবিনী হতেই পারে।

প্রশ্ন \ ৭ \ বাংলাকে পুণ্যবতী বলার কারণ কী?
উত্তর : বাংলার ধমণী দিয়ে বয়ে চলা পবিত্র নদী আর বীর সন্তানদের জন্মভ‚মি হওয়ার সুবাদে কবি বাংলাকে পুণ্যবতী বলে অভিহিত করেছেন।
নদীমার্তৃক এদেশের শোণিতধারা হিসেবে বইছে নানা নদ-নদী। যা বাংলা মায়ের ললাটে এঁকে দিয়েছে বিজয় তিলক। আর পুণ্যতার মোড়কে মোড়া পলিমাটি বিধৌত জনপদ বীরসন্তানদের জন্মভ‚মি। তাই কবি বাংলা মাকে পুণ্যবতী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।