নানান দেশের নানান ভাষা, বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা?  

নানান দেশের নানান ভাষা,

বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা?

মূলভাব:

মাতৃভাষার মাধ্যমে মানুষের মনের প্রকৃত বিকাশ হয়। এই ভাষার মাধ্যমেই তাদের মনের স্ফূর্তি ঘটে।

সম্প্রসারিত ভাব:

এই পৃথিবীতে বহুজাতির মানুষ বসবাস করে। পৃথিবীতে প্রায় সবজাতির নিজস্ব ভাষা রয়েছে। প্রত্যেকটি জাতি তার নিজ নিজ ভাষায় কথা বলে। তাই এক ভাষা অন্য ভাষা থেকে আলাদা। আমরা চেষ্টা করলে অন্য জাতির ভাষায় কথা বলতে পারি। কিন্তু তাতে আমাদের মন ভরেনা। কারন আমরা ভাষার মাধ্যমে শুধু নিজের মনের ভাবই অন্যের কাছে প্রকাশ করিনা, মাতৃ ভাষার সাহায্যে অন্যের মনের কথা, সাহিত্য নিজের মধ্যে অনুভবও করি। নিজের ভাষায় কিছু বোঝা যত সহজ তা পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষায় বোঝা সম্ভবনয়। আমরা যদি কখনো বিদেশে ভ্রমণ করি তবে এই অনুভূতি আরো প্রখর ভাবে উপলব্ধি হবে। তখন নিজের ভাষা ভাষী মানুষের জন্য ভেতরে মন পোড়বে। আমরা বাঙ্গালী, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি,গান গাই, লেখি, সাহিত্য রচনা করি, বেদনা প্রকাশ করি। অন্য কোনো ভাষায়তা এত সহজে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দদাশ,  জসীমউদ্দীন এই বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করে বিখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবনের শুরুতেই বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে তার আক্ষেপের আর সীমা থাকেনা। যখন সে বাংলায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন,  তখন তিনি সাফল্য লাভ করেন। একটি ছোট শিশু তার মায়ের মুখ থেকে মাতৃভাষাকে আয়ত্ত করে,  স্বপ্নদেখে, বড় হয়ে ওঠে। তাই মাতৃভাষার সাথে তার আত্মার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এই সম্পর্ক পৃথিবীর অন্য কোন ভাষার সাথে হয়না। তাই অন্য ভাষাকে শিখতে হলে মাতৃভাষার বুনিয়াদ আরোশক্ত ও মজবুত করতে হবে।

সিদ্ধান্ত:

নিজ দেশকে ভালবেসে নিজ দেশের ভাষাকে ভালবাসতে হবে, এর বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে এবং বিকৃতি থেকে ভাষাকে রক্ষা করতে হবে।