নামাজ শিক্ষা – নামাজে প্রয়োজনীয় সকল সূরা ও দুআ

ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সালাত বা নামায অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর নিকট বান্দার আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে সালাত। সালাতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নৈকট্য লাভ করতে পারে। সালাত হচ্ছে জান্নাতের চাবিকাঠি ও আল্লাহর সঙ্গে আধ্যাত্মিক সংযােগ স্থাপনের মাধ্যম। সালাত মানুষকে অশ্লীলতা ও গর্হিত কর্মকাণ্ড হতে বিরত রাখে। সালাতের প্রভাবে মানুষ শৃঙ্খলাবােধ, সময়ানুবর্তিতা, কর্তব্যপরায়ণতা ইত্যাদি গুণে গুণান্বিত হয় এবং ধনী-গরিব, সাদা-কালাে মানুষের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববােধ জাগ্রত হয়।

জামাআতে সালাত জামাআত আরবি শব্দ। এর অর্থ একত্রিত হওয়া, সমবেত হওয়া প্রভৃতি। ইসলামি পরিভাষায়, নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় মুসলিম সম্প্রদায় ইমামের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সালাত আদায় করাকে জামাআতে সালাত আদায় বলে। জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব ফরজ সালাত একাকী আদায় করার চেয়ে জামাআতে আদায় করার প্রতি বিশেষ তাগিদ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন :

وازكوامع الكوينه

অর্থ : “তােমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪৩)

নবি করিম (স.) জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, একাকী সালাত আদায় অপেক্ষা জামাআতে আদায় করলে সাতাশগুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।’ (বুখারি ও মুসলিম)। জামাআতে সালাত আদায়কারীকে নবি করিম (স.) খুবই পছন্দ করতেন। তিনি নিজে কখনাে জামাআত ত্যাগ করেননি। আবার কেউ জামাআতে উপস্থিত না হলে তিনি খোঁজ নিতেন এবং এতে মহানবি (স.) অসন্তুষ্ট হতেন। তাই আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন ও অধিক সাওয়াব পাওয়ার আশায় প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে জামাআতে সালাত আদায় করা প্রয়োজন।

নামাজের ফরয সমুহঃ

নামাজে মােট তেরটি ফরজ উহার মধ্যে বাহিরে ফরজ সাতটি। যথা-

  • ১. শরীর পাক
  • ২. পােশাক পাক,
  • ৩. নামাযের স্থান পাক,
  • ৪. সতর ঢেকে রাখা,
  • ৫. নামাযের সময় হওয়া,
  • ৬. কেবলামুখী হওয়া,
  • ৭. নিয়্যত করা।

আর নামাযের ভিতরে ফরজ ছয়টি। জথাঃ

  • ১. তাকবীরে তাহরীমা বলা,
  • ২. দাড়িয়ে নামায আদায় করা,
  • ৩. নামাযে কিরয়াত পাঠ | করা,
  • ৪. রুকু করা,
  • ৫. সিজদা করা,
  • ৬. শেষ বৈঠক।

নামাজের ওয়াজিবসমুহঃ

নামাযের ১৪টি ওয়াজিব।

  • ১, সূরা ফাতিহা পড়া
  • ২. সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যে কোন সূরা পড়া
  • ৩, রুকু ও সিজদায় এক তাসবীহ পরিমাণ দেরি করা,
  • ৪. রুকু হতে সােজা হয়ে খাড়া হওয়া,
  • ৫. দুই সিজদার মাঝখানে সােজা হইয়া বসা,
  • ৬. তিন অথবা চার রাকয়াত নামাযের দুই রাকয়াতের পরে বসা,
  • ৭. উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা,
  • ৮, ফজর, মাগরির, ইশা ও জুময়ার ফরজ নামায ও দুই ঈদের নামাযে সূরা কেরাত জোরে এবং যেহার, আসর নামাযে সূরা কেরাত নীরবে পাঠ করা।
  • ৯. বিতরের নামাযে দোয়ায়ে কুনুত পড়া,
  • ১০, দুই ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা,
  • ১১, চার রাকয়াত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম দুই রাকয়াত কেরাতের জন্য নির্দিষ্ট করা,
  • ১২. নামাযের ভিতরের ফরজগুলাে ধীরে-সুস্থে আদায় করা,
  • ১৩. মােক্তাদীগণের ইমামকে অনুসরণ করা,
  • ১৪। সালাম ফিরাইয়া নামাজ শেষ করা।

নামাযে ওয়াজিবসমূহের মধ্য হতে ভুলবশতঃ কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে অথবা কোন ওয়াজিব তার নির্ধারিত জায়গা থেকে সরে গেলে সেজদা সাহু ওয়াজিব হয়।

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

সূর্যোদ্বয়ের সময়, দুপুর বেলা মাথার উপর সূর্য থাকার সময় এবং সূর্যাস্তের সময়ে কোন প্রকার নামাযই পড়া জায়েয নাই। তবে বিশেষ কারণে ঐ দিনের আসর নামাজ সূর্যাস্তের সময় পড়া যায় কিন্তু মাকরূহ হবে। | নামাযে যদি উক্ত ফরযসমূহের মধ্য হতে কোনটি ছুটে যায় তাহলে ঐ নাম বাতিল হয়ে যাবে। পুনরায় ঐ নামায পড়তে হবে।

নামাজের সুন্নতসমূহঃ

  • ১। তাকবীর বলে দু’হাত কর্ণের লতি পর্যন্ত উঠান।
  • ২। হাতের আঙ্গুল পরস্পর পৃথক রাখা।
  • ৩। ইমামের জন্য নামায আরম্ভের তাকবীর উচ্চৈঃস্বরে পড়া।
  • ৪। ছানা | পাঠ করা।
  • ৫। আউযুবিল্লাহ’ পাঠ করা।
  • ৬। সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদিগণের মৃদুস্বরে ‘আমীন’ বলা ।
  • ৭। পুরুষের জন্য নাভীর নীচে তাহরীমা বাধা আর স্ত্রী লােকের জন্য ছিনার উপরে তাহরীমা বাধা।
  • ৮। রুকুর তাকবীর বলা।
  • ৯ রুকুতে দুই জানু ধরা ও আঙ্গুলসমূহ পরস্পর পৃথক রাখা।
  • ১০। রুকুর ভিতরে তিন, পাচ বা সাতবার তাছবীহ বলা।
  • ১১। রুকু হতে উঠে সােজা হয়ে দাঁড়ান।
  • ১২। রুকু হতে ওঠার সময় ইমামের ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ ও মুক্তাদিগণের রাব্বানালাকাল হামদ’ বলা।
  • ১৩। সিজদায় গিয়ে দু’হাটু ও তাকবীর বলে বসা।
  • ১৪। সিজদায় তাসবীহ পড়া ।
  • ১৫। পুরুষের জন্য সিজদা হতে উঠে ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসা, আর স্ত্রীলােকের উভয় পা ডান দিকে বের করে দিয়ে বসা।
  • ১৬। সিজদা থেকে উঠে এক তাছবীহ পরিমাণ বসা।
  • ১৭। দুরূদ শরীফ পাঠ | করা।
  • ১৮। দোয়ায়ে মাছুরা পড়া।
  • ১৯। দুদিকে সালাম ফিরানাে। |

নামাজের মুস্তাহাবসমূহঃ

নামাযে পাঁচটি মুস্তাহাব রয়েছে। তা মেনে চলা খুবই সাওয়াবের কাজ এবং ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে না। নিম্নে মুস্তাহাবগুলাে উপস্থাপন করা হল

  • ১। হাই এলে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা। মুখ খুলে গেলে দাঁড়ানাে অবস্থায় ডান হাত দিয়ে এবং অন্যান্য অবস্থা বাম হাতের পিঠ দিয়ে মুখ ঢাকা।
  • ২। কাশি যতদূর সম্ভব ঠেকিয়ে রাখা।
  • ৩। পুরুষ যদি চাদর প্রভৃতি গায়ে দিয়ে থাকে, তাহলে তাকবীরে তাহরীমার জন্যে হাত উঠাবার সময় চাদর থেকে হাত বের করা, মেয়েদের হাত বের না করে, তাকবীরে তাহরীম বলা।
  • ৪। দাঁড়ানাে অবস্থায় সিজদার স্থানের দিকে, রুকু অবস্থায় দু’পায়ের ওপর বসা অবস্থায় দু’হাটুর ওপর এবং সালাম, ফেরানাের সময় দু’কাধের ওপর নযর রাখা।
  • ৫। নামাযী একাকি নামায পড়লে রুকু এবং সিজদার সময় ৩, ৫ অথবা ৭ বার তাসবীহ পড়া।

নামাজের মাকরূহসমূহঃ

  • ১। চাদর বা জামা না পড়ে কাঁদে ঝুলিয়ে রাখা।
  • ২। ময়লা ধুলা-বালি লাগার ভয়ে  জামা কাপড় গুটানাে।
  • ৩। আঙ্গুল মটকানাে।
  • ৪। বস্ত্র শরীর অথবা দাড়ির সাথে খােলা রাখা।
  • ৫। এদিক ও দিক দেখা।
  • ৬। চুল মাথার উপরিভাগে বাধা।
  • ৭। বিনা ওজরে সিজদার স্থানের ইট-পাথর সরান।
  • ৮। আলস্যভরে শরীর মােড়ামুড়ি করা।
  • ৯। সিজদার সময়ে হাত বিছিয়ে দেয়া।
  • ১০। আগের কাতারে স্থান থাকতে পেছনের কাতারে দাঁড়ান।
  • ১১। অবহেলা করে খালি মাথায় নামায পড়া।
  • ১২। আকাশেম দিকে তাকান।
  • ১৩। ভাল কাপড় থাকার পরও মন্দ কাপড়ে নামায পড়া ।
  • ১৪। নামাযের মধ্যে কপালের মাটি মুছে ফেলা ।
  • ১৫। কোন প্রাণীর ছবি সামনে-পিছনে, ডামে-বামে, উপরে-নিচে ও কাপড়ের মধ্যে থাকা।
  • ১৬। সিজদার সময়ে বিনা কারণে হাটুর পূর্বে হাত মাটিতে রাখা।
  • ১৭। বিনা কারণে আসন পেতে বসা।
  • ১৮। ফরয নামাযে এক সূরা বার বার পড়া।
  • ১৯। কোন মানুষের মুখের দিক হয়ে নামায পড়া।
  • ২০। সিজদাতে পিঠ উভয় উরুর সাথে মিলিয়ে দেয়া।
  • ২১। এক হাত বা তদুর্ধ স্থানে ইমামের দাঁড়ান।
  • ২২। নাক-মুখ ঢেকে নামায পড়।
  • ২৩। উভয় সিজদার মধ্যে অথবা তাশাহুদ পড়ার সময় কুকুরে ন্যায় বসা।
  • ২৪। দুহাতে মাটির উপর ভর দিয়ে ওঠা।
  • ২৫। কোন সুন্নাত পরিত্যাগ কর।

নামাজ ভঙ্গের কারণসমূহঃ

  • ১. নামায আদায় রত অবস্থায় কথা বললে।
  • ২. নামাযের মধ্যে স্বেচ্ছায় কিংবা ভুলে পানাহার করলে।
  • ৩. নামাযে থাকা অবস্থায় কাউকে সালাম দিলে।
  • ৪. কারাে সালামের উত্তর দিলে।
  • ৫. অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাশি দিলে।
  • ৬. অনর্থকভাবে নামাযের মধ্যে উহ্ আহ্ শব্দ করলে।
  • ৭. দেখে কুরআন পড়লে। নিষ্প্রয়ােজনে কান্নাকাটি করা। শাস্তির ভয়ে যদি নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলে তবে নামায ভঙ্গ হবে না।
  • ৮. নামাযের মধ্যে উচ্চৈঃস্বরে হাসলে।
  • ৯. নামাযের মধ্যে পার্থিব কোন কিছু প্রার্থনা করলে।
  • ১০. নামাযের কোন ফরয কাজ পরিত্যাগ করলে।
  • ১১. সতরের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ খুলে গেলে।
  • ১২. নামাযের মধ্যে কোন লেখা দেখে | পড়লে। চাই তা কুরআন শরীফ হােক অথবা অন্য কোন লেখা হােক।
  • ১৩. কিবলার দিক হতে অন্যদিকে ছিনা ঘুরে গেলে।
  • ১৪. কারাে সুসংবাদ শুনে সুবহানাল্লাহ্ বা আলহামদুলিল্লাহ্ বললে।
  • ১৫. কারাে দুঃসংবাদ শুনে ইন্নালিল্লাহ্ বললে।
  • ১৬. বিনা ওযূতে নামায আদায় করলে।
  • ১৭. কোন কাজ বেশি সময় ধরে করলে।
  • ১৮. কোন * হাঁচি দাতার আলহামদু লিল্লাহর উত্তরে ইয়ার হামুকাল্লাহ বললে।
  • ১৯. মােক্তাদি ব্যতীত অন্য লােকের লােমা গ্রহণ করলে।
  • ২০. ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাযের মধ্যে কুরআন শরীফ ভুল পড়লে।
  • ২১. নাপাক জায়গায় সিজদা করলে।
  • ২২. নামাযের মধ্যে দ্ৰিায় ঢলে পড়লে।
  • ২৩. সিজদা অবস্থায় দু’পা ভূমি হতে উঠিয়ে ফেললে।
  • ২৪. নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামায পড়লে।
  • ২৫. নামাযের মধ্যে ছােট শিশুকে দূরে ঠেলে দিলে অথবা ছােট শিশুকে কোলে তুলে দুগ্ধ পান করালে নামায নষ্ট হয়ে যাবে।
  • ২৬. নামাযের মধ্যে চুল বাঁধলে অথবা কোন কাজ করলে কিংবা তাসবীহ পরিমাণ দেরি করলে।
  • ২৭. পকেটে নাপাক বস্তু থাকলে।
  • ২৮. ইমামের নামায নষ্ট হলে যদি ইমাম না বদলিয়ে বের হয়ে যান, তাহলে মুক্তাদির নামায নষ্ট হবে।
  • ২৯, কুরআন ভুল পড়লে।
  • ৩০. ইমামের আগে পড়ে করলে মােক্তাদির নামায নষ্ট হবে।
  • ৩১. ইমাম লােকমা গ্রহণ না করলে ইমামও মােক্তাদীর সকলের সালাত নষ্ট হবে। 

জায়নামাযের দোয়া

 إني وجهت وجهي للذي فطر السموت والأرض حنيفا وما أنا من المشركين – نی

উচ্চারণঃ ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানীফাওঁ ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। এ দোয়া পাঠ করে নামাযী.সােজা হয়ে দাড়িয়ে নামাযের নিয়ত করবে। ইমামের পেছনে হলে যেভাবে নিয়ত আছে সেভাবে করবে আর একাকী হলে একাকীর মত নিয়ত করবে।

তাকরীরে তাহরীমাঃ দেহকে স্বাভাবিক রেখে সােজা হয়ে দাঁড়াবে। দু’পা মাঝখানে কমপক্ষে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাকা রেখে দাড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা ‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ মহান) বলার সময় দু’হাত কানের গােড়া পর্যন্ত উঠিয়ে ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কজি বরাবর ধরবে এবং অন্য আঙ্গুলিগুলাে বাম হাতের পিঠের উপর রেখে নাভির নিচে হাত বাঁধবে তবে মহিলারা হাত বাঁধবে বুকের উপরে। এরপর সানা পড়বে।

সানা পাঠ

سبحانك اللهم وبكميك وتبارك اسمك وتعالی جنت ولا إله غيرك.

উচ্চারণঃ সুবহানাকাল্লাহুমা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদুকা ওয়ালাইলাহা গাইরুকা। এরপর “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করবে।

সূরা ফাতিহা ও কুরআন পাঠ তারপর সূরা ফাতিহা পাঠ করে আমীন বলবে ও অন্য সূরা মিলাবে। আর পিছনে নামায হলে চুপচাপ ইমামের কিরাত শুনবে। রুকুতে গমন।  কিরাত শেষ হলে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবেন এবং দুহাত হাটুতে রেখে আঙ্গুল দিয়ে ধরুন। হাত সােজা রাখবেন এবং মাথা যেন কোমড়ে থাকে। রুকুতে গিয়ে নিম্নের তাসবীহ তিন/পাঁচ সাত বার পাঠ করবেন।

রুকুর তাসবীহ

সুবহানা রাব্বিয়াল আ’যীম।

এরপর সােজা হয়ে দাড়াবেন এবং দাঁড়ানাের সময় নিম্নের তাসমীহ ও দাড়িয়ে তাহমীদ – সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ , রাব্বানা-লাকাল হাম। পাঠ করবে। এরপর তাকবীর বলে সিজদায় যাবেন।

সিজদা

সিজদা এভাবে করতে হয় যাতে প্রথমে দু’হাটু, তারপর দুহাত, এরপর নাক এবং সর্বশেষ কপাল জমিনে স্থাপিত হবে। চেহারা দু’হাতের মাঝখানে থাকবে। বৃদ্ধা আঙ্গুল মেলানাে থাকবে এবং সব আঙ্গুল কিবলামুখী থাকবে। দুকনুই জমিন থেকে। উপরে এবং হাঁটু রান থেকে আলাদা থাকবে আর পেটও রান থেকে আলাদা থাকবে। কনুই জমিন থেকে এভাবে আলাদা থাকবে যাতে এর নিচ থেকে একটি ছােট বকরী।

অনায়াশে যেতে পারে। দু’পা আঙ্গুলের উপর ভর করে মাটিতে লেগে থাকবে এবং | আঙ্গুলগুলাে কিবলামুখী থাকবে। সিজদায় এ তাসবীহ তিন/পাঁচ সাত বার পাঠ ‘ করবেন।

সিজদার তাসবীহ

সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা।

দু’সিজদার মাঝে বসা। সিজদা থেকে ওঠার সময় প্রথমে নাক, তারপর কপাল এবং শেষে হাত বসুন। বসার নিয়ম হচ্ছে- ডান পা খাড়া করে বাম পা বিছিয়ে তার উপর পুজার

পাল এবং শেষে হাত উঠিয়ে

নামাজে প্রয়োজনীয় ছোট সূরা সমূহ

সূরা ফাতিহা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 
الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ 
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ 
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ 
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ 
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ 

উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“আলহামদুলিল্লাহি রাব্বীল আ’লামীন। আররাহমানির রাহীম। মা-লিকী ইয়াউমিদ্দ্বীন। ইয়্যাকা-না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতায়ীন। ইহদিনাস-সিরাতাল মুসতাক্বীম। সিরাত্বাল লাযিনা আন-আ’মতা আ’লাইহিম।গাইরিল মাগদুবি আ’লাইহিম। ওয়ালাদ্দুয়াল্লীন। আমীন”।

অর্থঃ “সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর, যিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াময় যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে”।

সূরা ফীল


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ
تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ

উচ্চারণঃ
“আলাম তারা কাইফা ফা আ’লা রাব্বুকা বি-আসহাবিল ফীল। আলাম ইয়াজ-আ’ল কাইদাহুম ফি তাদলীল। ওয়া-আরসালা আলাইহিম তাইরান আবাবীল। তারমিহিম বিহিজা রাতিম্মিন সিজ্জিল। ফাযাআ’লাহুম কাআ’সফিম মা’কূল”।

অর্থঃ
“পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী, যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন”।

সূরা কাফিরুন


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ
وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ

উচ্চারণঃ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

“ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন। লা আ’বুদু মা তা’বুদ। ওয়ালা আনতুম আ’বিদুনা মা আ’বূদ। ওয়ালা আনা আ’বিদুম্মা আবাত্তুম। ওয়ালা আনতুম আ’বিদুনা মা আ’বুদ। লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়াদ্বীন”।


অর্থঃ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

“বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে”।