‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ সৃজনশীলে সহায়ক জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
১। ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতার রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতার রচয়িতা আল মাহমুদ।
২। ‘কলরব’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘কলরব’ শব্দের অর্থ কোলাহল।
৩। ‘দরবার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘দরবার’ শব্দের অর্থ রাজসভা।
৪। ‘চৌকিদার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘চৌকিদার’ শব্দের অর্থ দারোয়ান।
৫। দিঘির কথায় কারা হেসে উঠল?
উত্তর: দিঘির কথায় ফুল-পাখিরা হেসে উঠল।
৬। পকেট থেকে কবিকে কী খোলার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: পকেট থেকে কবিকে পদ্য লেখার ভাঁজ খুলতে বলা হয়েছে।
৭। কবি পকেট থকে কী বের করেন?
উত্তর: কবি পকেট থেকে ছড়ার বই বের করেন।
৮। ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় চাঁদকে কবি কেিসর সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে কবিতায় চাঁদকে ডাবের সাথে তুলনা করেছেন।
৯। ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় উল্লিখিত মস্ত শহর দেখতে কেমন?
উত্তর: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় উল্লিখিত মস্ত শহর দেখতে অনেকটা ঝিমধরা।
১০। দিঘির জর নিজেদের কী বলে সম্বোধন করল?
উত্তর: দিঘির জল নিজেদের না-ঘুমাাের দল বলে সম্বোধন করল।
১১। কোথায় আজ কাব্য হবে?
উত্তর: রক্তজবা ঝোপের কাছে আজ কাব্য হবে।
১২। কোন জিনিসটিকে দেখে কেউ দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হয়?
উত্তর: মসজিদের মিনারটিকে দেখে কেউ দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হয়।
১৩। পাথরঘাটার গির্জাটিকে কী মনে হয়?
উত্তর: পাথরঘাটার গির্জাটিকে লাল পাথরের ঢেউ বলে মনে হয়।
১৪। কবিকে কোন জিনিসটি কাছে আসার জন্য ডাক দেয়?
উত্তর: পাহাড় কবিকে কাছে আসার জন্য ডাক দেয়।
১৫। কোথায় জোনাকিদের দরবার বসেছে?
উত্তর: লালদিঘির পাড়ে জোনাকিদের দরবার বসেছে।
১৬। কবিকে দেখে দিঘির জন্য কী করে?
উত্তর: কবিকে দেখে দিঘির জল কলকলিয়ে ওঠে।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
১। কবি ছিটকিনিটা ধীরে ধীরে খুললেন কেন?
উত্তর: কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ছিটকিনিটা ধীরে ধীরে খুললেন।
কবি আল মাহমুদ ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। এই সৌন্দর্যে কবি নিজেই অভিভূত ও মুগ্ধ । কবি প্রকৃতির ফুল, পাখি, চাঁদ, পুকুরের জলের সাথে ভাব জমাতে চান। সুতরাং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন এবং উপভোগ করতে কবি ছিটকিনিটা ধীরে ধীরে খুললেন।
২। কবি কীভাবে মনের কথা ব্যক্ত করেন?
উত্তর: কবি ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় সর্বত্রই প্রকৃতি নিয়ে নানা কথা ব্যক্ত করেছেন।
কবিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কবি প্রকৃতির বৈচিত্র্য আর প্রকৃতির প্রতি তাঁর যে টান তা তুরে ধরেছেন। কখনো চাঁদকে ডাবের মতো বলেছেন। আবার গির্জাকে লাল পাথরে ঢেউ বলেছেন্ প্রকৃতিকে যেন তাঁর কল্পনার চোখ দিযে দেখেছেন। আবার প্রকৃতির সাথে যেন তিনি কথা বলে যাচ্ছেন। দিখির জলের সাথে কিংবা ফুল-পাখিদের সাথে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক। তাইতো প্রকৃতি তাঁকে আপন করে নিয়েছে।
৩। কখন উটকো পাহাড় কবিকে ডাক দিল?
উত্তর: কবি যখন দরগাতলা পেরিয়ে বামদিকে মোড় ফিরেছেন তখনই উটকো পাহাড় তাঁকে ডাল দিল।
‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় কবি রাতের প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসেন। সেখানে তিনি শহরের বিভিন্ন স্থান পার হয়ে যখন দরগাতলা আসেন তখন বামে মোড় ঘুরেই দেখতে পান একটি পাহাড়; যাকে কবি কিছুটা ঝামেলা মনে করেছিলেন। কারণ কবির মনে হচ্ছিল পাহাড়টি যেন তাঁকে কাছে ডাকছে।
৪। কবিকে দেখে দিঘির কলো জল করকলিয়ে উঠল কেন?
উত্তর: কবিকে কাছে পেতে দিঘির জল কলকলিয়ে উঠল।
কবি গভীর রাতে প্রকৃতির টানে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেকানে তিনি শহরের গির্জা, মসজিদের মিনার আর পাহাড় প্রদক্ষিণ করেন। এরপর তিনি আসেন লালদিঘির পাড়ে। জোনাক পোকার আসর জমেছে সেখানে। এরপর কবির মনে হয় দিঘির কালো জল যেন তাঁর সাথে কথা বলছে। তাঁকে আহ্বান করছে তাদের সাথে সময় কাটানোর জন্য।
৫। ফুল, পাখিরা সব কলরব জুড়ে দিল কেন?
উত্তর: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতহায় কবির সাথে ফুল, পাখিদের মিলন হলে তারা আনন্দে কলরব জুড়ে দেয়।
কবি প্রকৃতির মাঝে গিয়ে তাকে যেন সঙ্গী হিসেবে নিয়েছেন। প্রকৃতির সাথে তিনি অনবরত কথা বলে যযাচ্ছেন। আর প্রকৃতিও তার সাথে যোগ দিয়েছে। এ কারণেই দিঘির জলকে দেখে কবি ভাবছেন তাঁকে যেন ডাকছে। ফুল, পাখিরাও তাঁর কাছে কবিতা শুনবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করছে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে প্রকৃতির সাথে কবির বন্ধুত্ব আর আত্মিক সম্পর্কের রূপ ফুটে উঠেছে।
৬। দিঘির কথায় ফুল, পাখিরা হেসে উঠল কেন?
উত্তর: আল মাহমুদ রচিত ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় দিঘির জলের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতেই ফুল, পাখিরা হেসে উঠল।
কবি প্রকৃতিকে ভালোবেসে তাদের মাঝে যান। আর প্রকৃতিও তাঁকে আপন করে নেয়। তাইতো দিঘির জল কবিকে রাত জাগতে আহ্বান জানায়। তার কবিতার খাতা খুলতে বলে। পুল, পাখিরা তাতে সায় দেয়। কারণ তারাও কবির কবিতা শুনতে পাবে। অর্থাৎ কবির সাথে প্রকৃতি যেন মিলেমিশে একাকার।