যে ১০ টি কৌশল পড়াশোনাকে আরও উন্নত করবে…

অনেক ভাবে আপনি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেন কিন্তু যারা কোন পরীক্ষায় ভালো করতে চান ভালো পড়াশোনা অভ্যাস তাদের জন্য আবশ্যক। নিচের পদ্ধতিগুলো আপনার পড়াশোনার কৌশল কে আরো উন্নত করবে।

  1. পড়াশোনার যথাযথ পরিবেশ তৈরি করা: পড়াশোনায় মনোনিবেশ তৈরি করার জন্য পড়াশুনার যথাযথ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ ছাড়া পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা অত্যন্ত কঠিন।
  2. প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতের কাছেই রাখুন: অনেক সময় দেখা যায় পড়তে বসে পানি খাওয়া, কলম পেন্সিল বই খাতা আনতে যাওয়ার জন্য বারবার পড়ার টেবিল থেকে উঠতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না। সঠিকভাবে কার্যকরীভাবে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে চাইলে প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র হাতের কাছেই রাখুন।
  3. মনোসংযোগ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন জিনিসপত্র দূরে রাখুন: মনোসংযোগ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন সব জিনিসপত্র দূরে রাখুন। যেমন: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, রেডিও। ধরুন আপনি পড়তে বসে আছেন এমন মুহূর্তে আপনার মোবাইল ফোনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে নানা ধরনের নোটিফিকেশন আসছে। যার ফলে আপনার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে মনঃসংযোগ নষ্ট হচ্ছে। তাই মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন জিনিসপত্র হাতের কাজ থেকে দূরে রাখুন।
  4. শান্ত থাকার চেষ্টা করুন: যারা স্বাধীন দৌড়ঝাঁপ করতে পছন্দ করে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ বসাতে বেশ কষ্ট হয়। তাই শান্ত থাকার চেষ্টা করুন যাতে আপনি খুব সহজেই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারেন।
  5. পর্যাপ্ত ঘুমান: সুস্থ দেহ ও মনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। দেহ বা মন ভালো না থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই পড়াশোনা গতি বৃদ্ধি বা পড়াশোনায় উন্নতি করতে হলে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।
  6. সময়ের সিডিউল তৈরি করুনঃ সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কখনোই সফল হওয়া সম্ভব হয় না। তাই একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই তার সময়কে কিভাবে অতিবাহিত করতে হবে সে ব্যাপারে একটি সিডিউল বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও সিডিউল সঠিক সময়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত তার নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সময় এর সিডিউল তৈরি করা।
  7. নোট তৈরি করুন: পড়াশোনায় ভালো করতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই নোট তৈরি করতে হবে। শ্রেণীতে অনেক সময় শিক্ষকমন্ডলী বিভিন্ন বিষয়ে নোট প্রদান করে থাকেন। সেইসব নোট এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন জটিল বিষয়ে নোট তৈরি করতে হবে।
  8. কঠিন বিষয় এর আগে শুরু করুন: পড়তে বসে শুরুতে কঠিন বিষয় আগে পড়ুন।বিশেষত সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পরে কঠিন বিষয় সমূহ আগে পড়লে খুব সহজে মনোসংযোগ করা সম্ভব হয়। এতে কঠিন বিষয় সমূহ আয়ত্ত করা সম্ভব হয়। যেমন গণিত বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কঠিন মনে হয়। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খেয়ে গণিত বিষয় নিয়ে পড়তে বসা যেতে পারে। এইভাবে কঠিন বিষয় সমূহ আগে পড়লে সহজেই কঠিন বিষয় সমূহ সমাধান করা সম্ভব।
  9. যেসব বিষয়ে সবচেয়ে বেশি মনো সংযোগ প্রয়োজন তার প্রতি খেয়াল দিন: আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করি। বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করি। কিন্তু সব ধরনের বিষয়ে সমান মনোসংযোগ প্রয়োজন হয় না। কোন কোন বিষয়ে অধিকতর ও মনঃসংযোগ প্রয়োজন হয়। তাই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়ে বা যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি মনোসংযোগ দিতে হবে সেই দিকে অধিকতর দৃষ্টিপাত করতে হবে।
  10. এছাড়া পরীক্ষা কৌশল বিষয় জানতে হবে: এমনটি বলা হয় যে পরীক্ষা সফলতা 50 ভাগ নির্ভর করে পরীক্ষা কৌশলের উপর। তাই পরীক্ষার খাতা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। কোন প্রশ্ন কিভাবে লিখতে হবে, মার্জিন কেমন হবে, সেই সব বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এভাবে অধিক সফলতা পাওয়া সম্ভব।

প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য পড়াশোনাতে আরো উন্নতি করার জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি। এই বিষয়ে যদি আপনার কোন মতামত থাকে তবে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে আমাদের জানাতে পারেন।