শিক্ষার মান উন্নয়নে নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে: ডা: দীপু মনি

বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ মিলিয়ে বাজেট শতকরা প্রায় তিন ভাগের কাছাকাছি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা: দীপু মনি। তবে এই হার আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে লার্নিং লস নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষার মান উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায় তিনি বলেন, শুধুমাত্র বরাদ্দ নয় ভালো মানের কারিকুলাম ও শিক্ষক না থাকলে আউট কাম পাওয়া যাবে না। বর্তমানে একটি ভালো শিক্ষাক্রম হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। এসব কাজ শেষ হলে বরাদ্দ বাড়বে। শিক্ষা একটি মেগা প্রজেক্ট হবে। শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা যত ভালো করতে পারব, আমরা তত এগিয়ে যেতে পারবো। শিক্ষা রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়াকে আরো অনেক ভালো করার চেষ্টা করছি।

ডা: দীপু মনি আরো বলেন, আমরা চাইছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই অনেক বেশি ক্লাব গঠন করতে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাবা, বিজ্ঞান ও ডিবেটিং ছাড়াও অন্যান্য সব ধরনের ক্লাব থাকতে হবে। এখন রোবটিক্স ক্লাব হচ্ছে, নানান কিছু হচ্ছে।

বৈশ্বিক অতিমারি করোনার কারণে সারা বিশ্ব ক্ষত্রিগস্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষায় এর প্রভাব পড়েছে। তবে লার্নিং লস বা গ্যাপ পূরণে সময় লাগবে। একটি বা দুটি শিক্ষাবর্ষে তা পূরণ হবে তেমন নয়। করোনায় ক্ষতির পাশাপাশি অনেক সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরা চেষ্টা করে শেখার যোগ্যতা অর্জন করেছে, প্রযুক্তি ব্যবহার শিখেছে।’

এছাড়া গবেষণা প্রতিবেদনের ওপর মতামত দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ও সচিব ফরিদ আহমদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এনসিটিবি সদস্য ড. এ কে এম রেজাউল হাসান।