শীতে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও বিষয়াদি

শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শীতকাল দরজায় কড়া নাড়ছে। বাজারে নানা ধরনের শীতকালীন সবজিতে ভরে গেছে।আসুন জেনে নেই এই শীতকালে খাওয়া-দাওয়া ওর জীবন-যাপনে কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখলে সুন্দরভাবে শীতকে উপভোগ করা সম্ভব।

পানি পানঃ

শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করলেই আমাদের মাঝে পানি পানের পরিমাণ অনেকটা কমে যায়।এতে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায় এবং শরীরের পানিশূন্যতা দেখা দেয়। ত্বক ও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়। তাই শীতকালে ও যেন পানি পানের পরিমাণ কমে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে ঠান্ডা পানি পানে গলা ব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানি কিছুটা গরম করে কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় পান করা যেতে পারে।

কেউ কেউ ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয়ে শীতে ডাব খাওয়া বন্ধ করে দেন। ডাব কাটার পর কিছুক্ষণ (প্রায় পাঁচ মিনিট) রেখে তারপর ডাবের পানি পান করুন। এতে ঠান্ডার ঝুঁকি কমে যাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের স্যুপ খেতে পারেন।

রঙিন শাকসবজি খানঃ

শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বক সুস্থ রাখতে বিভিন্ন ধরনের রঙিন শাকসবজি খেতে পারেন নিয়মিত। রঙিন শাকসবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করবে; সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’সহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব পূরণ করবে। এগুলো ত্বকের রুক্ষতা দূর করবে।

ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল গ্রহণ:

শীতকালে নানা ধরনের ফলমূল যেমন কমলা মাল্টা, খাবারের চার্টে রাখার চেষ্টা করুন। ভিটামিন সি সর্দি কাশি নিরাময়ে সাহায্য করে। এছাড়া ত্বক ও চুল মসৃণ রাখে। তাই শীতের রুক্ষতা দূর করতে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার নির্বাচন করুন।

চুলের প্রতি যত্ন নিনঃ

শীতে চুল পড়া বেড়ে যায়, চুলে খুশকি হয়। চুলের যত্নে প্রয়োজনীয় পানি পান করুন। বেশি বেশি রঙিন শাকসবজি ও টাটকা ফল চুলের এ সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুনঃ

শরীর গরম রাখতে আমরা প্রায়শই শীতে চা-কফি বেশি পরিমাণে পান করে থাকি। এতে ঘুমের সমস্যা হয়, খাবারে রুচি কমে যায়। শরীর গরম রাখতে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া উচিত। বাদাম বা খাবারের তালিকায় মাছ থাকলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাই চা-কফির পরিবর্তে সবাইকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে অভ্যস্ত হওয়া উচিত।

ক্যালরির কথা মাথায় রেখে পিঠা জাতীয় খাবার নির্বাচন করুনঃ

বাঙালিরা ঐতিহ্যগত কারণে শীতে বিভিন্ন ধরনের পিঠা খাওয়া হয়। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পিঠা উৎসব হয়ে থাকে। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত এ খাওয়া এবং কম হাঁটার কারণে শীতে অনেকের ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই পিঠা ক্যালরি হিসাব করে খাওয়া উচিত।

সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান ও নিয়মিত হাঁটা চলার মাধ্যমে শীতে নিজেকে সুস্থ্য ও সাবলীল রাখা সম্ভব। তাই ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছু সতর্কতা গ্রহণের মাধ্যমে শীতকে উপভোগ করুন।