আসমানি কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর।

১। ‘আসমানি’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?

উত্তর: ‘আসমানি’ কবিতাটি জসীমউদ্দীন রচনা করেছেন।

২।জসীমউদ্দীন কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: জসীমউদ্দীন 1903 খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

৩। আসমানির গ্রামের নাম কী?

উত্তর: আসমানির গ্রামের নাম রসুলপুর।

৪। পুকুরের জলে কে বিষ গুলে দেয়?

উত্তর; পুকুরের জলে ম্যালেরিয়ার মশা বিষ গুলে দেয়।

৫। জসীমউদ্দীন কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর: জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

৬। জসীমউদ্দীনের গ্রামের নাম কী?

উত্তর: জসীমউদ্দীনের গ্রামের নাম তাম্বুলখানা।

৭। ‘সুচয়নী’ কাব্যটি কার লেখা?

উত্তর: ‘সুচয়নী’ কাব্যটি জসীমউদ্দীনের লেখা।

৮। আসমানিকে উপহাস করে কে?

উত্তর: আসমানিকে উপহাস করে গায়ের বরন।

৯। আসমনির চোখ দুটি দেখতে কেমন?

উত্তর: আসমানির চোখ দটি দেখতে ভোমর-কালো।

১০। ব্যাঙের ছানা কোথায় কিলবিল করে?

উত্তর: ব্যাঙের ছানা আসমানিদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুরে কিলবিল করে।

১১। আসমানিদের বাড়ি কিসের মতো?

উত্তর: আসমানিদের বাড়ি পাখির বাসার মতো।

১২। বরন শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: বরন শব্দের অর্থ রং।

১৩। আসমানিকে দেখতে কার বাড়িতে যেতে হবে?

উত্তর: আসমানিকে দেখতে রহিমদ্দির বাড়িতে যেতে হবে।

১৪। একটু হাওয়া দিলে নড়বড় করে কী?

উত্তর: একটু হাওয়া দিলে আসমানির ঘর নড়বড় করে।

১৫। একটু বৃষ্টি হলে পানি পড়ে কোথায়?

উত্তর: একটু বৃষ্টি হলে আসমানিদের ঘরে পানি পড়ে।

১৬। পদ্ম-পুকুর কোথায়?

উত্তর: পদ্ম-পুকুর আসমানিদের বাড়ির ধারে।

১৭। বাঁশির মতো গলার সুর কার?

উত্তর: বাঁশির মতো গলার সুর আসমানির।

১৮। আসমানি কেমন পোশাক পরে?

উত্তর: আসমানি ছেঁড়া তালি দেওয়া পোশাক পরে।

১৯। আসমানিদের বাড়ির আশপাশ কেমন?

উত্তর: আসমানিদের বাড়ির আশপাশ অস্বাস্থ্যকর।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর:

১। আসমানির রোগে ভোগার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: আসমানির রোগে ভোগার কারণ ঠিকমতো খেতে না পাওয়া।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানি হতদরিদ্র। সে ঠিকমতো খেতে পায় না। তাছাড়া তার বাড়ির চারপাশের পরিবেশ হলো অস্বাস্থ্যকর। তাদের রান্নায় ব্যবহৃত পানি অপরিষ্কার, নোংরা ও জীবাণুযুক্ত। আর এসব কারণে আসমানি প্রায়ই রোগে ভোগে।

২। আসমানির বাড়ি দেখতে পাখির বাসার মতো কেন?

উত্তর: খুব জীর্ণতার কারণে আসমানির বাড়ি দেখতে পাখির বাসার মতো।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানি খুব দরিদ্র। পরনে শত তালির কাপড়। অভাবের কারণে তার বুকের হাড় দেখা যায়। তাদের ঘর ভেন্না পাতার ছাউনি। একটু বৃষ্টি এল ঘরে পানি পড়ে। একটু বাতাস এল ঘর নড়বড় করে। তাই আসমানির বাড়ি ঠিক যেন দেখতে পাখির বাসার মতো।

৩। কবি রসুলপুরে যেতে বলেছেন কেন?

উত্তর: আসমানিকে দেখতে কবি রসুলপুরে যেতে বলেছেন।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানি রসুলপুরে থাকে। তার পারিবারিক অবস্থা খুবই জীর্ণ। কবির মতে তার মতো অভাবী অহরহ দেখা যায় না্ আসমানির এই করুণ অবস্থা দেখে সবাই বিস্মিত হয়। তাই আসমানির অতি করুণ মানবেতর জীবন দেখতে কবি রসুলপুরে যেতে বলেছেন।

৪। “সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি”-কথাটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: আসমানির চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ে অভাবের কারণে।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানি দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। চরম অভাবের কারণে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। পরনের কাপড়ের অভাব, বাঁচার জন্যে খাদ্যের অভাব আসমানিকে চরমভাবে আক্রান্ত কের রেখেছে। তাই তার সুন্দর ভোমর-কালো চোখ দিয়ে গড়িয়ে অশ্রু ঝরে।

৫। “পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস”-কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর: আসমানির পরনে শত তালির ছেঁড়া জামার কথা বলা হয়েছে।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানি জীর্ণ পোশাক পরে। তার অভাবের সীমা নেই। সে নিয়মিত খেতে পায় না বলে নানা অসুখে ভোগে। পরনেও তার ভালো পোশাক নেই। আসমানি যে পোশাকে পরে তাতে শত তালি ও শত ছেঁড়া দৃশ্যমান হয়।

৬। আসমানির মিষ্টি মুখের হাসির প্রদীপ নিভে গেছে কেন?

উত্তর: অভাবের কারণে আসমানির হাসির প্রদীপ নিভে গেছে।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানি চরম অভাবের শিকার। সে দিনের পর দিন অনাহারে থাকে। এজন্য তার বুকের হাড় দেখা যায়। তার মিষ্টিমুখ খানি মলিন হয়েছে। আসমানির মনে কোনো আনন্দ নেই। তাই আসমানির মিষ্টি মুখের হাসির প্রদীপ নিভে গেছে।